চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউটে চলমান পশ্চাত্মূখী আন্দোলন প্রসঙ্গেঃ

\"\"

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউট এর আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীরা মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য রাজনিতিবীদদের সমঝোতা উপেক্ষা করে ১০ দিনের মাথায় পুনরায় চট্টগ্রাম নগরীর বাদসা মিয়াঁ রোডের ক্যাম্পাস গেটে তালা ঝুলিয়ে গেটের ভিতর অবস্থান নিয়েছে, এবং লাগাতার ক্লাস বর্জনের ঘোষনা দিয়েছে। তাদের এক দফা দাবী চারুকলা ইন্সটিটিউট চবি’র মূল ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে। প্রশাসন হতে নানান দফায় বিগত ১০ দিনে বর্তমান ক্যাম্পাসের ভবন গুলি সংস্কার ও এর জন্যে প্রয়োজনীয় কর্মকান্ড শুরু করার চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু আন্দোলনকারী ছাত্ররা এই চেষ্টা ভেস্তে দিয়েছে। তারা এই ক্যাম্পাসের সংস্কার করতে দিবে না, তাদের একমাত্র দাবী তাদের মূল ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আগামী ৫ ফেব্রুয়ারীর মধ্যে প্রশাসন চারুকলাকে মূল ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে নেবার ব্যপারে ইতিবাচক পদক্ষেপ না নিলে তারা আমরণ অনশনের হুমকি দিয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রচার করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়য় প্রশাসন এই মুহুর্থে চারুকলাকে ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে নিতে অপারগ, এবং সাময়িক ভাবেও সেখানে চারুকলাকে কার্যক্রম চালাতে দেবার মত ভৌত অবকাঠামো মূল ক্যাম্পাসে নাই বলে জানিয়েছে। কিন্তু এই ছাত্ররা প্রয়োজনে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করতে ইচ্ছুক, তবুও ওরা চারুকলাকে ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে নিয়েই যাবে, নইলে শহরের ক্যাম্পাস অবরোধ করে রাখবে। ইন্সটিটিউট এর গেটে তালা ঝুলিয়ে রাখবে। সি এম পি, জনপ্রশাসনের এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনেক চেষ্টা করেও তাদের বুঝাতে ব্যর্থ হয়েছেন যে তাদের এক দফা দাবী মানা সম্ভব নয়, মুখের কথায় বা কোন জাদু মন্ত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার ক্যাম্পাস বর্তমান অবস্থানে আসে নি, আর ফিরে ও যেতে পারেনা। বিদ্যমান ক্যাম্পাসের বাস্তব সমস্যা সমুহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধান করে ধীরে ধীরে বাদসামিয়াঁ রোডের ক্যাম্পাস কে সংষ্কার ও পরিবর্ধনের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের সব অসুবিধা দূর করা হবে এই মর্মে প্রশাসন সমোঝতার পরথেকেই কাজ করে যেতে সচেষ্ট থাকলে ও তাদের বিগত ১০ দিনে কিছুই করতে দেয়নি আন্দোলনকারী ছাত্ররা।

এদিকে সধারন ছাত্রছাত্রীদের একটা অংশ ক্লাসে ফিরে যেতে চায়, তাদের বক্তব্য তারা রাস্তায় ব্যনার নিয়ে দাঁড়িয়ে সর্বসাধারন কে জানিয়েছে। তারা বলছে তারা এই আন্দোলনের শুরু থেকেই সমর্থন দিয়ে এসেছে, মাননীয় মন্ত্রীর আশ্বাসে তারা ক্লাসে ফিরেছে, তারা আশা করেছিল তাদের ক্লাশ চলবে। পাশাপাশি তাদের ২২ দফা দাবী অনুসারে ক্যাম্পাসের সংস্কার কার্যক্রম ও চলমান থাকবে। তারা বুঝতে পাড়ছে না কেন ১ দফা দাবী দিয়ে ক্যাম্পাস অবরোধ করা হয়েছে। তাদের আশংকা এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে তাদের শিক্ষাজীবন থেকে আরো একটা বছর হারিয়ে যাবে, এমনকি অনেক কে এই ধকল সামলাতে চারুকলায় গ্রাজুয়েশনের আশা ত্যাগ করতে হতে পারে। আন্দোলন করতে গিয়ে এমনিতেই তাদের ৩ মাস ক্লাসের বাইরে থাকতে হয়েছে। বৈশ্বিক করোনা মহামারির কারনে বিগত বছর দুয়েক শিক্ষা কার্যক্রম এর দারুন ব্যঘাত ঘটেছে। তাই তাদের দাবী আন্দোলনের নামে যাতে চারুকলার শিক্ষা কার্জক্রমে প্রতিবন্ধকতা তৈরি না করা হয়। তারা চায় যে কোন মূল্যে ক্লাশ চালু থাকুক, এবং ২২ দফা দাবী পুরনে সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আরো দ্রুত গতিতে কাজ চালিয়ে নিক।

উল্লেখ্য, যারা আন্দোলন করছে তারা ইন্সটিটিউট এর মোট ছাত্রছাত্রীর মাত্র ২০ শতাংশ। আর বাকি ৮০ শতাংশ ছাত্রদের একটা অংশ রাস্তায় দাঁড়িয়েছে এই আন্দোলনের বিপক্ষে তাদের অবস্থান তুলে ধরতে, একটা অংশ আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের চাপের মুখে নিরব রয়েছে।

আন্দোলনকারীদের সাথে তাদের ২২ দফা দাবী নিয়ে ও তার সমাধানকল্পে প্রশাসনের পক্ষে যারা কথা বলেছেন তাদের সাথে আলাপে এই আন্দোলনকারীরা ১ দফা ছাড়া অন্য কোন বিষয় নিয়ে কথা বলতে দেয় নি।

এক দফা দাবীর পক্ষে আন্দোলনকারীরা যা বলছে তার সারমর্ম হল–

১। চবি ক্যাম্পাসে চারুকলার অনুপস্থিতি চবি অলংকার হারা হয়েছে। চবির অলংকার দরকার যা কিনা চবি এতদিন নিজেরাই বুঝতে পারেনি, কিন্তু এই বিজ্ঞ আন্দোলনকারীরা তা বুঝেছে এবং জাতিকে বুঝানোর দায়িত্ব নিয়েছে এবং তাই চারুকলাকে এখনি মূল ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে দিতে হবে।
২। চারুকলা মূল ক্যাম্পাসে না থাকাতে চারুকলার মহান ছাত্রছাত্রীদের সাথে মেলামেশা ও বহুমাত্রীক লেনদেন না হওয়াতে জাতি মেধাশূন্য হয়ে পড়ছে, এই মেধাশুন্যতা হতে বাচাতে যে কোন মূল্যে চারুকলাকে ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে নিতে হবে।
৩। মূল ক্যাম্পাসের নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সউন্দর্য্য হতে বঞ্চিত হওয়ার কারনে চারুকলার বর্তমান ক্যাম্পাসে পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীরা শিল্পী হয়ে উঠতে পাড়ছেনা, জাতির বৃহত্তম স্বার্থের কথা বিবেচনা করে তাদের শিল্পী হয়ে উঠার পথ সুগম করতে অবিলম্বে চারুকলা কে চবি’র মূল ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে নিতে হবে।
৫। সেখানে কোন দালান কোঠায় জায়গা না হলে তারা পাহাড়ে গুহা বানিয়ে ক্লাস করবেন, খোলা আকাশ আর ঘন জঙ্গল তাদের মেধার বিকাশে অসাধারন ভূমিকা রাখবে। তারা হাটতে হাটতে নিবিড় প্রকৃতির মাঝে মিলেমিশে এক অনন্য শিল্পপ্রভার উম্মেষ ঘটাবেন যা এই ইট কাঠ পাথরের দুষ্ট শহরে একেবারেই হয়ে উঠছে না।
৬। আর ফিরে যাবার মাধ্যমে সেই সব দুষ্ট-বুদ্ধি শিল্পী, বুদ্ধিজীবীদের কিছুটা সায়েস্তা করা যাবে, যারা কিনা শুধুমাত্র ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের কারনে, নিজেদের বউ – বন্ধুদের উপকার করার উদ্দ্যশ্যে চবি’র এত বড় একটা অলংকার হরন করে চট্টগ্রাম শহরে এত বছর আটকে রেখেছে, চারুকলাকে খাচায় ভরে বন্ধি করে রেখেছে। এই প্রতিশোধ জাতির কলংক মোছনের হাদিয়া হয়ে উঠবে একদিন, তাই এই আন্দোলন। চারুকলাকে মূল ক্যাম্পাসে ফিরে যেতেই হবে।
৭। মূল ক্যাম্পাসে প্রতিদিন কত চাঞ্চল্য, ও রোমাঞ্চকর ঘটনা ঘটে যার যাদুতে ছাত্রছাত্রীরা বিকশিত হতে পাড়ত, কিন্তু এই শহরে কিছুই নাই, এখানে মানুষের কোন জ্ঞান নাই, কালচার নাই, এখানে নাই প্রকৃতির মায়াবী হাতছানি, এই সব ধরনের নাই হতে মুক্তির এক মাত্র পথ মূল ক্যাম্পাসে চারুকলা ফিরিয়ে নেওয়া।
৮। চারুকলার এক শ্রেনীর শিক্ষকরা শহরে ক্যাম্পাসের আশপাশে বাড়ি বানিয়ে, ভাড়া বাসা নিয়ে আরামে বসবাস করেন, এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মহান শিক্ষকতার জন্যে এই আরম হারাম। তাদের বাসে বসে ৪-৫ ঘন্টা সময় না দিলে চারুশিক্ষারথীদের উন্নতি ভীষণভাবে ব্যহত হয়। এসমস্ত আরাম প্রিয় শিক্ষকদের প্রতিদিন ৪-৫ ঘন্টা বাসে বসে থাকা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবী, এতে বাসের মধ্যে তাদের নিরবে বসে থেকে বা ঘুমিয়ে চিন্তার যে বিকাশ হবে তাতে ভবিষ্যতের চারুশিক্ষায় বিপ্লব ঘটে যাবে নিশ্চিত , এই সম্ভাবনাময় আগামীর বিপ্লবকে ঘটতে দিতে চারুকলাকে মূল ক্যাম্পাসে ফিরতেই হবে।
৯। এখানে টয়লেট ভাঙ্গা, নোংরা, খাবারের জন্যে কোন ডাইনিং রুম নেই, নামাজের জায়গা নেই, পুরোনো বিল্ডিং এর পলেস্তারা খসে মাথায় পরে, অথচ মূল ক্যাম্পাসের নয়নভিরাম প্রকৃতিতেএসবের কোন দরকারই হত না, মেরামত কিংবা রক্ষনাবেক্ষনের তো প্রশ্নই আসেনা, ছাত্রছাত্রীরা সব কিছুই প্রাকৃতিক ভাবে সেরে আদিম জ্ঞানে আলোকিত হতে পারত, জাতি রক্ষা পেত অহেতুক খরচাপাতি হতে, তাই মূল ক্যাম্পাসে ফিরে যেতে দিতে হবে চারুকলা কে।

১০। আরো অনেক কারণ আছে যেগুলো আপাতত না বললে ও আপনারা বুঝে নিবেন আশা করি।

আর যে সব নির্বোধ এখন আন্দোলন ক্ষেমা দিয়ে ক্লাস করতে রাস্থায় নেমেছে তারা যা বলছে তার মূল কথা –

১। তাদের ক্লাসে ফিরতে হবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে, এই আন্দোলন চলতে থাকলে তাদের শিক্ষাকাল অনির্ধারিত ভাবে দীর্ঘায়িত হবে, যা করোনা কালীন ক্ষতিকে আরো উচ্চকিত করবে। এতে অনেকের শিক্ষাজীবন চিরতরে স্তব্ধ হয়ে যাবে।
২। তারা চায় ক্লাস চালু রেখে তাদের ২২ দফা দাবী আদায় করতে, যেখানে ক্যাম্পাস হাটজারীর মূল ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে নেবার কোন দাবীই ছিলনা। আর ২২ দফা দাবী পূরণের প্রসাশনিক আশ্বাস কে তারা সম্মান দেখাতে চায়। সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় সময় দিলে প্রশাসন এসব সমস্যার সমাধান করতে পারবেন বলে তাদের ধরনা।

\"\"

ভোরের কাগজের মূল প্রতিবেদন পড়তে চাইলে এখানে ক্লিক করুন

দেশের ২য় বৃহত্তর শহর চট্টগ্রাম, এর কেন্দ্রে অবস্থিত বর্তমান চারুকলা ইন্সটিটিউট। বাদশামিয়া রোডের এই অবস্থান থেকে সি আর বি, পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত, দেশের বৃহত্তম বন্দর, বিমান বন্দর, পাহাড়তলী, কর্নফুলী নদীর ঘাট সমুহ সহ কত কত দর্শনীয় স্থান সহজেই যাতায়াত করা যায়। মানুষ এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্রে ঠাসা এক দুর্দান্ত শহর কে পাশ কাটিয়ে কি বুঝে ২২ কি মিটার দূরে অবস্থিত একটি জনবিচ্ছিন্ন দ্বীপের মত জায়গায় চারুকলা কে ফিরে যেতে হবে? জন-যোগাযোগ, প্রকৃতি, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র, রাজনৈতিক কেন্দ্র সমুহ,সমাজ সম্প্রিতক্ততার সুযোগ কি নাই বর্তমান অবস্থানে? শহরে রয়েছে বর্তমান সময়ের সর্বাধুনিক পাব্লিক লাইব্রেরী, ব্রিটিশ কাউন্সিল, শিল্পকলা একাডেমী, আলিয়স ফ্রানসেস, জার্মান ও রাশিয়ান কালচারাল সেন্টার সহ আরো নানান ধরনের সাংস্কৃতিক চর্চার দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান সমুহ যা ছাত্র ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার তৈরিতে বহুমুখী কর্মকান্ডে ব্যস্ত থাকে সারা বছর। এসব সুযোগ সুবিধা চারুকলার যে কেউ নিতে পারে নিজের পড়ালেখার পাশাপাশি। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর আর্ট গ্যালারীটি দেশের ২য় বৃহৎ সরকারী আর্ট গ্যালারী যা চাইলেই চারুকলার শিক্ষার্থী শিক্ষক গণ ব্যবহার করতে পারেন। ইন্সটিটিউট থেকে এই গ্যালারী মাত্র ১০ মিনিটের হাটার দুরত্বে অবস্থিত, অনেকে এসব সাপোর্ট কাজে লাগিয়ে নিজের কর্মকান্ডের ব্যাপ্তি শহরময়, বিশ্বময় ছড়িয়ে দেবার সুযোগ পেয়েছেন শহরে ইন্সটিটিউট স্থানান্তরিত হবার করনে। খোঁজ নিয়ে দেখুন তো, ইন্সটিটিউট ক্যাম্পাসে থাকা কালীন ছাত্র ছাত্রীদের কজন এই সুবিধা গুলি নিতে পেরেছিলেন? যখন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পড়তে যাবেন তখন এই সুবিধে গুলি কি সহজলভ্য থাকবে আপনাদের জন্যে? বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এবং শহরের যেই দুরত্ত্ব তাতে কেউ নিজস্ব গাড়ি ব্যবহার করেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যম্পাসে ৫ টা পর্যন্ত ক্লাস করে শহরে এসে কোন প্রতিষ্ঠানে নিজের পছন্দের কাজটিতে আর ইচ্ছে করলেও জোগ দিতে পারবেন না।

আর যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশাল ক্যাম্পাস খুব টানে তাদের জন্যে তো সেটি এখন নিষিদ্ধ করে নি কেউ? আপনার যখন খুশি সাটল ট্রেনে চড়ে যাবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে। হ্যা, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলার কর্মকান্ড নিঃসন্দেহে আলংকরিক, সোভা বর্ধন কারী। সে ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যম্পাসে একটি চারুকলা চত্বর তৈরির চেষ্টা করুন, যাতে যুক্ত থাকবে সেমিনার হল, প্রদর্শনী গ্যালারী, ও ইন্সটিটিউটের স্যাটেলাইট অফিস ও খোলা প্রাঙ্গন বা মুক্ত মঞ্চ । এটিকে কেন্দ্র করে চারুকলা ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থী ও দেশবিদেশের চারুশিল্পী গনের নিয়মিত পদচারনায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস মুখরিত থাকতে পারবে, সাথে সাথে ইন্সটিটিউট এর ছাত্রছাত্রীদের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিষয়ে পড়তে আসা ছাত্রছাত্রীদের সাথে ভাবের আদান প্রদান বাড়বে, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পাশাপাশি সংস্কৃতি চর্চার পরিবেশ উন্নত হবে, এতে সব পক্ষ সমৃদ্ধ হবে। আপাতত অবকাঠামো ছাড়াই চাক্সু ভবন এবং জারুল তলা চত্বরকে কে ঘিরে চারুকলা চত্বর তৈরি করে নিতে শুধু সদিচ্ছার প্রয়োজন। এছাড়া ও বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান যে কোন সাংস্কৃতিক আয়োজনে চারুকলার ছাত্রছাত্রীরা চাইলেই নিজেদের যুক্ত করতে পারেন। চারুকলা ইন্সটিটিউট কিছু প্রাক্টিকাল আউটডোর স্টাডি নিয়মিত ভাবেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ে যেতে পারেন, এটির জন্যেও কোন অবকাঠামো শিফট করা লাগে না, লাগে সদিচ্ছা টুকু, এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যম্পাসে চারুকলা না থাকার আফসোস তো থাকার কথা না। কারো ইচ্ছে হলে, সামর্থ্য থাকলে সেখানে গিয়ে রাজনীতি ও করুন, কিন্তু সেই জন্যে তো পুরা ইন্সটিটিউট সেখানে নিয়ে যেতে হয় না।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ছাত্রছাত্রীগন চট্টগ্রামের মত একটা বৃহৎ শহরে নানাবিধ নাগরিক সুবিধার মধ্যে থেকে, বৈচিত্রময় এই নাগরিক পরিবেশে যদি নিজেকে বিকশিত করতে না পারেন তবে কি করে জোবরা গ্রামে জনবিচ্ছিন্ন গ্রামীন পরিবেশে গহীন প্রকৃতিতে ডুবে তা পারবেন বলে আশা করেন তা ভেবে পাইনা আমি। আর হলফ করে বলুন তো আপনার বিষয়ের বা চারুকলার কর্মকান্ডের ভোক্তা কারা ? তাঁরা কি বাংলাদেশের কোন গ্রামে থাকেন? আদতে চারুকলা বিষয় হিসেবে নাগরিক জন-জীবন ঘেষা, এর ভোক্তা শ্রেণী শহরে বসবাস করে। এর চর্চার ও বিপননের সমস্ত প্রতিষ্ঠান বিশ্বের শহর গুলিকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে ও বিকশিত হয়েছে। অনেকে শান্তি নিকেতন এর কথা বলবেন এই প্রসঙ্গে, কিন্তু বুঝতে হবে শান্তি নিকেতন সম্পুর্ন আবাসিক কলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং এর নাগরিক যোগাযোগ আন্তর্জাতিক মানের। তদুপরি, বিশ্বকবি ও শিল্পী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুররে মতন একজন প্রবাদ প্রতীম ব্যক্তিত্ব কোথায় পাবেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউট বিনির্মানের জন্যে, সেরকম কি কাউকে পাওয়া গেছে আপনাদের পরামর্শ দাতেদের মধ্যে? আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস কি সেই আয়োজন করতে দিবে আপনাদের?

চলমান আন্দোলন আত্মঘাতী আন্দোলন। চট্টগ্রামের চারুকলার বিকাশের ক্ষেত্রে, দেশের চারুকলা চর্চার গুনগত মান উন্নয়নের ও প্রতিবন্ধক পশ্চাত্মূখী আন্দোলন।

আসুন এসব অপ রাজনীতি বাদ দিয়ে শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত এই ইন্সটিটিউট কে কিভাবে বিশ্বমানে গড়ে তোলা যায় , কি করে ছাত্রছাত্রীদের মৌলিক চাহিদা গুলি মিঠানো যায়, এই বিদ্যমান ক্যাম্পাস কে কি করে চট্টগ্রামে আরো বিস্তৃত ও বিকশিত করা যায় সেই বিষয়ে কথা বলি।

আমাদের দেশের প্রচলিত শিল্পচর্চার সব চাইতে দুর্বল দিক এর জনবিচ্ছিন্নতা। দেশের সাধারন মানুষের রুচি, চিন্তার গতিপ্রকৃতি, দৈনন্দিন জীবনাচার নিবিড় ভাবে পাঠ করতে না পাড়লে কি করে সত্যিকারের জনসম্প্রিক্ত শিল্প চর্চার পথ তৈরি হবে? ইন্সটিটিউট এর শহরের অবস্থান ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের নাগরিক সমাজ ও এর সংস্কৃতির নিবিড় সান্নিধ্যের এক অমুল্য সুযোগ, এটি দেশের শিল্প চর্চার ক্ষেত্রে যেমন নতুন বৈশিষ্ঠ তৈরি করতে সক্ষমতা দিবে তেমনি আপামর নাগরিক জীবনের গুনগত মানের উপর প্রভাব ফেলতে সহায়ক হবে। তাই চট্টগ্রাম শহরে অবস্থিত এই ইন্সটিটিউট এখান থেকে সরিয়ে নেবার চিন্তা মোটেই ভালো চিন্তা নয়। এই বিষয়ে চট্টগ্রেমের নাগরিক, শহরে বসবাসকারী শিল্পীদের এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের আরো সোচ্চার ও কার্যকরী ভূমিকা প্রত্যাশা করি। ছাত্রছাত্রীদের উচিত এরকম বিধ্বংসী আন্দোলন বাদ দিয়ে চট্টগ্রাম শহরের থেকে কি করে চারুকলা চর্চার ও শিক্ষার মান উন্নয়ন করা যায় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যম্পাসের সাথে আরো বেশী সম্পৃক্ত হওয়া যায় তাঁর জন্যে সৃজনশীল ও কার্যকরী ভূমিকা রাখা।

এই বিষয়ে আরো জানতে ক্লিক করুন