৪১ নং ওয়ার্ডে চরবস্তিতে মাষ্টার সোলাইমানের বাড়ির মালিকানা সম্পর্কিত বিষয়ে একটা গোষ্ঠী ক্রমাগত মিথ্যাচার ও প্রতারণা মূলক গুজব ছড়িয়ে চলছে বিগত ২ বছর যাবত। ইতোমধ্যে মিথ্যা তথ্য, খতিয়ান ও দলিলের তথ্যের ভুল ব্যখ্যা দিয়ে, অভাবে পরে, বিপদে পরে অতি কমদামে জমি বিক্রির লোভের ফাঁদ পেতে কিছু নির্বোধ ও লোভী মানুষ এর কাছে থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। পতেঙ্গায় জমি কিনতে চাওয়া সাম্ভাব্য ক্রেতা গণকে সাবধান থাকার আহবান জানানো হচ্ছে।
আভিযোগকারীঃ আবু নাসের রবি
পিতাঃ মোঃ সোলাইমান
মাতাঃ হালিমা খাতুন
মোবাইলঃ +৮৮০১৫৭৫৬৩৮৩০৭
ই-মেইলঃ robii15@outlook.com
ওয়েব সাইটঃ https://abunaser.wordpress.com/
যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগঃ
১।
ক) মোহাম্মদ ইলিয়াস খ) মোহাম্মদ জাহাংগীর আলম সর্বপিতা মৃত হোসেন আহাম্দ, সর্ব মাতা কুনছুমা খাতুন, নাগর আলীর নতুন বাড়ি, দক্ষিণ পতেঙ্গা, দক্ষিণ পাড়া, ডাকঘর- বিমান বন্দর- থানা পতেঙ্গা, জেলা চট্টগ্রাম।
২। ক) খুরশিদা বেগম, স্বামী – মৃত আবুল হাশেম, প্রকাশ আবুল কাশেম, খ) মুজিবুর রহমান গ) আব্দুস সালাম ঘ) মোঃ ইসমাইল ঙ) রাজিয়া সুলতানা সর্ব পিতা- মৃত আবুল হাশেম, প্রকাশ আবুল কাশেম সর্ব মাতা খুরশিদা বেগম, চ) লাকি আক্তার, স্বামী মৃত মো আব্দুল করিম, ছ) জান্নাত মাওয়া, জ) তানিহা আক্তার ঝ) আরিশা আক্তার সর্ব পিতা মৃত আব্দুল করিম, সর্ব মাতা- লাকি আক্তার, সর্ব সাং – লাল মিয়া সুকানির বাড়ি, চরবস্তি, ৪১ নং ওয়ার্ড, দক্ষিণ পতেঙ্গা, পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম।
৩। ক) দেলোয়ার হোসেন, খ) পারভিন আক্তার সর্বপিতা এখলাস মিয়া, সর্ব মাতা নছুবা খাতুন, সর্বসাং- লাল মিয়া সুকানির বাড়ি, চরবস্তি, ৪১ নং ওয়ার্ড, দক্ষিণ পতেঙ্গা, পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম।
সংক্ষিপ্ত অভিযোগঃ
২ ও ৩ নং তালিকা ভুক্ত ব্যক্তিবর্গ নিজেদের মধ্যকার মালিকানা সংক্রান্ত দেওয়ানী মামলা সুরাহা না করে বিগত ১৯৯০ সাল হতে নির্বিঘ্নে বলবত থাকা এওয়াজ বদল চুক্তি ও ১৯৬৯ সালের ৭০৬১ নম্বর সাফ কবলা ও ১৯৭৭ সালে রেজিস্ট্রি করা ৮৪৪৬ মালিকানা হস্থান্তর দলিল অস্বীকার করে প্রতারণা মূলক মিথ্যা তথ্য দিয়ে নানান জনের কাছ থেকে কম দামে জমি বিক্রির আশ্বাস দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা গ্রহণ করছে এবং মাস্টার সোলাইমানের বাড়িতে নতুন নতুন সাম্ভাব্য ক্রেতা নিয়ে হাজির হবার মাধ্যমে তাদের বাড়ি ছেড়ে দেবার জন্যে নানা রকম হুমকী ধমকি ও ভীতি প্রদর্শন করছে। ১ নং তালিকা ভুক্ত ব্যক্তিবর্গ এই ২ ও ৩ নং তালিকার ব্যক্তিবর্গের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সস্তায় জমির মালিক হতে গিয়ে ফেঁসে যাওয়ার পর এখন একই প্রতারণা মূলক পন্থায় সবাই মিলে অন্য কোন পক্ষকে ধোকা দেওয়ার মাধ্যমে নিজেদের লগ্নি পুনরুদ্ধার ও লাভের আশায় তৎপর হয়েছেন। অভিযোগ কারীর পরিবারকে বাড়ি ছেড়ে দেবার হুমকি দিচ্ছেন, এবং এলাকায় নানান রকম মিথ্যা কথা ও গুজব রটিয়ে অভিযোগ কারীর পরিবারের সম্মান হানি করছেন।
বিস্তারিত অভিযোগঃ
বিগত ২৫ জানুয়ারী ২০২৩ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৪ঃ০০ ঘটিকায় ১ নং তালিকা ভুক্ত ব্যাক্তিবর্গ একটি অবৈধ দখল পুনরুদ্ধার চুক্তিপত্র নামক এক ভুল তথ্য উপস্থাপন করা উদ্দেশ্য প্রনোদিত কাগজ প্রদর্শন পুর্বক মাষ্টার সোলাইমানের বাড়ির আঙ্গিনার খালি জায়গায় সাইন বোর্ড লাগানোর দাবী নিয়ে আসে এবং বলে যে, বি এস ২০১ দাগের অন্দর এই জমি মাস্টার সোলাইমান গং অবৈধ ভাবে দখল করে আছেন এবং এর প্রকৃত মালিক মৃত আবুল কাশেম প্রকাশ হাশেম গং। মাস্টার সোলাইমান যাতে অবিলম্বে এই জায়গা ছেড়ে দেন এবং আদতে এখানে অর্থাৎ এই বাড়িতে সোলাইমান সাহেবের কোন জমিই নাই। এই বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়ে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারীর মধ্যে মাষ্টার সাহেবের বাড়ি ওরা দখল নেবে বলে হুমকি দিয়ে যায়।
উল্ল্যেখ্য প্রদর্শিত চুক্তিনামায় দেখা যায় লালমিয়া সুকানির বাড়ির ২ নং তালিকা ভুক্ত ব্যাক্তিবর্গ নোটারি পাবলিক উকিলের মাধ্যমে তাদের বেদখলি সম্পত্তি ২০১ দাগএর ১৮ শতক সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের নিমিত্তে ১ নং তালিকা ভুক্ত ব্যাক্তিবর্গকে দায়িত্ব দিয়েছেন। এবং বিশেষ ভাবে উল্যেখ করেছেন যে, মাস্টার সোলাইমানের বাড়ির বি এস দাগের ১৯৯ দাগের মালিক ও মাষ্টার সোলাইমান নহে এর প্রকৃত মালিক মৃত এরশাদ আলীর পুত্র মৃত টান্ডা মিয়া, মাস্টার সোলাইমান অবৈধ ভাবে ভূমি দখল করে বাড়ি নির্মান করে এখানে বসবাস করছেন এবং বি এস দাগ -২০১ এর সাথে বি এস- ১৯৯ দাগের ১৪ শতক জায়গার এওয়াজ বদলের এখতিয়ার এখলাস মিয়ার নাই। সুতরাং ২০১ দাগের প্রকৃত মালিক ২ নং তালিকা ভুক্ত ব্যক্তিবর্গ।
মাস্টার সোলাইমান ১ নং তালিকাভুক্ত ব্যক্তিগণকে তাঁর মালিকানার এবং দখলের ব্যখ্যা ও এ সম্পর্কিত দলিলাদি দেখান এবং এসব দলিলাদির এক সেট ফটোকপি দিয়ে বলেন জমিজমা সম্পর্কে বিজ্ঞ কোন ব্যক্তিকে এগুলি দেখিয়ে যাতে দখল সত্ব সম্পর্কিত বিষয়ে টিক মত বুঝে নেয় এবং এধরনের আজগুবি দাবি দাওয়া নিয়ে ভাবনার আগে জমির প্রকৃতি মালিকানা নিয়ে দালিলিক বিষয় সুরাহা করার আগে যেন কারো বাড়ি দখল, জমি বেচাবিক্রির চেষ্টা না করে।
২৮ জানুয়ারী বেলা ১১ নাগাদ ১ নং তালিকা ভুক্ত ব্যক্তিবর্গ পুনরায় কিছু অপরিচিত মানুষজন নিয়ে সোলাইমান মাষ্টারের বাড়িতে প্রবেশ করে উক্ত ভূমি দেখাতে থাকে ও এর ভিডিও চিত্র ধারন করতে থাকে, আলাপে বুঝা যায় তাঁরা এই ভূমি ও নানান ভুয়া কাগজ পত্র ও ডকুমেন্টের তথ্য উপাথ্যকে ভুল ব্যখ্যার মাধ্যমে অন্য কোন পক্ষের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আদায়ের চেষ্টা করছেন।
এই একই ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকান্ডে ৩ নং তালিকা ভুক্ত ব্যক্তিবর্গ ও জড়িত। ১ , ২ ও ৩ নং তালিকা ভুক্ত ব্যক্তিবর্গ পরস্পর পরস্পরকে এই প্রতারণা মূলক কাজে সহযোগিতা করছে।
২০১ বি এস দাগের জমির মালিকানা সম্পর্কিত একটি ঘোষনা মূলক মোকদ্দমা ( মামলা নং ৪৫৬/২০২১) ২ নং বনাম ৩ নং তালিকা ভুক্ত ব্যক্তিবর্গের মধ্যে চলমান থাকায় এই জমি বিক্রির এখতিয়ার এখন কোন পক্ষের নাই। ১৯৭৭ সালে রেজিস্ট্রি করা ৮৪৪৬ নম্বর সাফ কবলা মূলে ২০১ বি এস দাগের জমির মালিক মৃত নছুবা খাতুন, নছুবা খাতুন নাবালক দেলোয়ার হোসেন ও পারভিন আক্তার কে ওয়ারিশ রেখে মারা যান, সেই সূত্রে মৃত এখলাস মিয়া এই জমির মালিক বর্তে যান। নছুবা খাতুনের ২০১ দাগের জমিটির চলাচলের রাস্তা ছিলনা, এর উত্তর দক্ষিণ এবং পশ্চিমের সমুদয় সম্পত্তি মাষ্টার সোলাইমানের বাড়ির অন্তর্ভুক্ত, এবং পুর্ব পার্শ্ব একটা পুকুর থাকায় এই জমি ব্যবহার করতে অসুবিধা হচ্ছিল, উপরন্ত নছুবা খাতুনের একই কবলা(৮৪৪৬) মূলে ক্রয় কৃত ৬ শতক ভিটার পশ্চিম সীমানায় মাষ্টার সোলাইমানের ক্রয়কৃত ১৯৯ বি এস দাগের অবস্থান হওয়ায় নছুবা খাতুনের স্বামী মৃত এখলাস মিয়ার পিড়াপিড়িতে তাদের উপকারার্থে মাষ্টার সাহেব ২০১ দাগের সমপরিমান ১৪ শতক জায়গা ১৯৯ দাগ হতে দখল চেড়ে দিয়ে ২০১ দাগের দখলে স্থানান্তরিত হন। এতে উভয় পক্ষের সুবিধা হয়। কিন্তু নছুবা খাতুনের মৃত্যু এবং দলিলে কিছু ভুল থাকার কারনে ভুমিটির খতিয়ানে ১৯৭৭ সালের আগের দখল সত্ত্বে পরিবর্তন হয় নি, এই একই কারনে মাষ্টার সোলাইমানের সাথে এওয়াজবদলের দলিল রেজিস্ট্রি ও আটকে রয়েছে বিগত ২৩ বছর যাবত। কিন্তু ভূমি ব্যবহার, ভোগ দখল ও চলাচলের কোন অসুবিধা অদ্যবধি হয় নি। উভয় পক্ষ নিজেদের দখলে থাকা ভুমির প্রয়োজন মত উন্নয়ন ও করেছেন। নাম জারির এই জঠিলতা নিরসনে নছুবা খাতুনের পুত্র ও কন্যা কিছুদিন আগে দলিল সংশোধন ও নামজারির আর্জিতে দেওয়ানী মামলা করেন যা বিচারাধীন রয়েছে।
এদিকে নামজারি না হবার কারনে বি এস খতিয়ানে আবুল কাশেম/হাশেম গং এর নাম রয়ে গেছে বিধায় তার ওয়ারিশগন ( ২ নং তালিকা ভুক্ত ব্যাক্তিগন) অবৈধ সুযোগ নিতে চেষ্টা করছেন। ২ টা দলিল উপেক্ষা করে তাঁরা ২০১ দাগের মালিকানা দাবী করছেন, এই দাবীতে এই পর্যন্ত ৪ বার ১৪৪ ধারায় মামলা করেছেন এবং প্রতিবারই কোর্ট মামলা খারিজ করে দিয়েছেন। কিন্তু বোকা আর লোভী মানুষকে কম দামে জমি দিয়ে দেবার নাম করে, তাদের সাথে নানান ছলচাতুরি করে খতিয়ানের তথ্য ভূল ভাবে উপস্থাপন করে, ও মিথ্যা কথা বলে লক্ষ্য লক্ষ্য টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
২ ও ৩ তালিকা ভুক্ত ব্যক্তিদের এই চক্রের নতুন স্বীকার ১ নং তালীকাভুক্ত ব্যক্তিগণ নিজেদের ভুল লগ্নিকৃত নগদ টাকা উদ্ধারে ২ ও ৩ নং তালিকাভুক্ত ব্যক্তিবর্গের সাথে হাত মিলিয়ে আরো অন্য কারো কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে নিজেদের টাকা উদ্ধার ও লাভের চেষ্টায় আছেন। এতে সমস্যা আরো জঠিল হয়ে উঠছে। এবং মাষ্টার সোলাইমানের বাড়ি ও এখানে বসবাস করা মানুষদের নির্বিঘ্ন বসবাস ঝুকিপুর্ন ও অসম্মান জনক হয়ে উঠছে।
মাস্টার সোলাইমানের বাড়ির জমির দাগ নকশাঃ
ধন্যবাদ।