চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগ ও চট্টগ্রাম সরকারী চারুকলা কলেজ, দুটি প্রতিষ্ঠানকে একত্র করে ইনস্টিটিউট বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা কেন, কার স্বার্থে হয়েছিল? এ পরিকল্পনায় আজ ও আগামীর চারুশিক্ষার্থীদের কোনো লাভ হলো কি না, নাকি বিশাল একটা ক্ষতি হলো, তা একটু খোলাসা করা জরুরি।
এই কথা বলে এক আন্দোলনে উস্কানীদাতা প্রাক্তন ছাত্রের প্রতিক্রিয়া ও এই প্রতিক্রিয়ায় মিথ্যাচার ও ভুল ব্যখ্যা সমুহ নিচে আলোচনা করা গেল।
প্রতিক্রিয়া – \”প্রথমত ওই সময়ে চারুকলা বিভাগের যেসব শিক্ষক শহরের চারুকলা কলেজের সঙ্গে যুক্ত হতে চেয়েছিলেন, তাঁরা কেবলই ব্যক্তিস্বার্থে এটা চেয়েছিলেন কেননা ওই সময় চারুকলা কলেজে অস্থায়ী পদে তাঁদের পরিবারের লোকজন ও বন্ধুরা শিক্ষকতা করছিলেন। দুটি প্রতিষ্ঠানকে আত্তীকরণের মাধ্যমে তাঁদের চাকরি স্থায়ী করা ছিল প্রথম উদ্দেশ্য।\”
এই প্রতিক্রিয়ায় মূলত কয়েকজন সম্মানিত সিনিয়র চারুকলা শিক্ষকের ব্যক্তিস্বার্থকে ফোকাস করা হয়েছে, বলা হয়েছে যে তাদের স্ত্রী ও বন্ধুদের চাকরি স্থায়ী করার উদ্দেশ্যে তারা পুরা একটা সরকারী আর্ট কলেজকে বিলুপ্ত করে দিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউট কে শহরে নিয়ে আসার মত ঘৃণ্য ও জঘন্য কাজটা করেছে। মারাত্মক স্বার্থপরতার উদাহরণ হয়ে যায় এসব শিক্ষকদের ভূমিকা। কিন্তু এই প্রতিক্রিয়াশীল লেখক যত্ন করে এড়িয়ে যান কি কারনে সরকারী চারুকলা কলেজ দীর্ঘ দিন অচল হয়ে ছিল? কেন সেখানে দফায় দফায় ছাত্ররা আন্দোলন করেছিল? আর যে ২-৪ জন শিক্ষকের স্ত্রী বা বন্ধু এখানে কলেজের অস্থায়ী শিক্ষক হিসাবে কর্মরত ছিলেন তাদের প্রোফাইলই বা কি ছিল। তাদের বিশ্ব্যবিদ্যালয়ে শিক্ষকতার যোগ্যতা ছিল কি ছিল না? কিংবা তারা স্থায়ী শিক্ষকের মর্যদা পেলে কোথায় সুবিধা টা হচ্ছিল?
সত্যি কথাটা হচ্ছে, চট্টগ্রাম চারুকলা কলেজ ছিল দেশের একমাত্র সরকারি চারুকলা কলেজ। এখানে দেশের অন্যান্য সরকারি কলেজের নিয়োগ রীতি অনুসরন করে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হত, পরীক্ষা পদ্ধতি ও সরকারি অন্যান্য সাধারন কলেজের নিয়মানুসারে হত। এমন কি সিলেবাসেও এটিকে বিশেষায়িত করা যাচ্ছিলনা। কিন্তু চারুকলার শিক্ষার শিক্ষাপদ্ধতি এবং মুল্যায়ন প্রক্রিয়া একেবারেই স্বতন্ত্র, এই কারনে সরকারি কলেজের নীতিমালা অনুসরন না করে চারুকলা কলেজ পরিচালনায় নতুন নীতিমালা তৈরি করার চাপ ছিল। কিন্তু দেশের একমাত্র সরকারি চারুকলা কলেজ হবার কারণে সরকারিভাবে একটি কলেজের জন্য আলাদা নীতিমালা তৈরির সুযোগ ছিলনা। আর এই কারনে এই কলেজের প্রিন্সিপাল থেকে শুরুকরে শিক্ষক পদে বাংলা, ইংরেজি, অঙ্ক, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি টিচারদের সরকারি পদায়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হত। এদিকে চারুকলা বিষয়ে শিক্ষা বি সি এস চালু না থাকায় সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় চারুকলার কোন শিক্ষক ছিলনা বি সি এস করা। এই বাস্তবতার সমাধান হচ্ছিল না দীর্ঘদিন ধরে, সে সময় শিক্ষকের অপ্রতুলতা ও কলেজ চালানোর প্রয়োজনে চবি চারুকলা থেকে পাশ করা একাডেমিক অ্যাচিভমেন্ট বিবেচনা করে অস্থায়ী পোষ্ট তৈরি করে চারুকলা বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া ছাড়া অন্য কোন বিকল্প ছিল না। কিন্তু এই সব শিক্ষকরা আদতে সরকারি সব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হত, এবং কেউ এখানে বেশি দিন থাকতে চাইত না। অন্য বিষয়ের যে সমস্থ স্থায়ী শিক্ষক সরকারিভাবে পদায়ন পেয়ে এখানে আসত তাদের আদতে এখানে কোন কাজ থাকত না, কিন্তু সুযোগ সুবিধা ও স্টেটাসের কারনে এই প্রতিষ্ঠানের মূল শিক্ষকদে সব সময় চাপে থাকতে হত। এই সব বাস্তবতায় এখানে শিক্ষকদের মধ্যে অশান্তি লেগেই থাকত। এছাড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ও নিত্য সমস্যা ছিল, কারন শিক্ষার মূল ফোকাস যেখানে হবার কথা সেখানে পড়ানোর মত শিক্ষক ছিল কম, দেখা যেত অঙ্কের শিক্ষক চারুকলার প্রিন্সিপাল হয়ে বসে আছেন, তার সাথে এই প্রতিষ্ঠানের কিছুতেই বলিবনা হয়না, ছাত্র শিক্ষকদের মধ্যে এই বাস্তব সমস্যা থেকে কিছুদিন পর পর থেকেই এই সরকারি কলেজে বিশৃংখলা লেগে থাকত। শেষদিকে পরিস্থিতি এমন হয়ে পড়েছিল যে আদতে এই কলেজ অচল হয়ে পড়েছিল।
অপরদিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগ প্রতিষ্ঠার ৪০ বছর পার করে ফেললেও সেখানে ছিলনা পর্যাপ্ত শেনীকক্ষ, সেমিনার রুম, লাইব্রেরী, প্রদর্শনী গ্যালারী, দক্ষ ও পর্যাপ্ত লোকবল থাকা সত্ত্বেও সেখানে ডিপার্ট্মেন্ট টি অবকাঠামোর সমস্যার কোন সমাধান হচ্ছিলনা। এসব কারনে সেখানেও ছাত্র শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছিল, ছাত্ররা নানান ইস্যুতে আন্দোলন করছিল, তারা চারুকলা বিভাগকে ইন্সটিটিউট এ রূপান্তরের দাবীতে জোরদার আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় একটা পুর্নাংগ চারুকলা ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠার জন্যে প্রস্তুত ছিলনা। এই পরিস্থিতিতে চারুকলা বিভাগের বার্ষিক প্রদর্শনী বন্ধ হয়ে ছিল প্রায় ৭ বছর যা কিনা একটা চারুকলা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কে অকার্য্যকর করে তুলেছিল।
একদিকে সরকারী চারুকলা কলেজের অবকাটামো ছিল সে সময়ে সর্বাধুনিক সুবিধা সম্পন্ন। কিন্তু সরকারি নীতিমালা ও শিক্ষক সংকটে প্রতিষ্ঠানটি চলছিল না, অপরদিকে দক্ষ ও বিখ্যাত শিক্ষক বৃন্দ আছেন, কিন্তু অবকাঠামো গত ও বাজেট বরাদ্দের অপ্রতুলতার কারনে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগটি কোন রকমে টিকে ছিল।
তাই চবি ও সরকারের নিতীনির্ধারনী জায়গা থেকে এই দুটি প্রতিষ্ঠানকে একীভুত করার বিবেচনা করা হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তের পিছনে এই বিভাগের শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে , স্বার্থপরতা নিয়ে যে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে তা উদ্দেশ্য প্রনোদিত।
হ্যাঁ, এই সিদ্ধান্ত হওয়াতে সেই সব শিক্ষক, যারা সরকারি চারুকলা কলেজের মত একটি প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে ঝুঁকি নিয়ে সেখানে অস্থায়ী শিক্ষক হিসাবে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন তাদের চাকরি স্থায়ী হয়েছে, এতে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের মর্যদা পেয়েছেন।এতে তো দোষের কিছু হয় নি, আর তারা তো কেউ অযোগ্য ও নয়। এতে কে কার বন্ধু, বা স্ত্রী তা সামনে এনে মুখরোচক গল্প ফাদার কি আছে? বরং এই দোষ খোজার মধ্যেদিয়ে প্রতিক্রিয়াশীল এই গোষ্ঠিটি নিজেদের কদর্জ্য মন ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ করছেন, এ স্পষ্ট হীনমন্যতা ছাড়া আর কিছু না।
প্রতিক্রিয়া – \”দ্বিতীয়ত তাঁদের সবার আবাসস্থল ছিল শহরে। ২২ কিলোমিটার দূরে ক্যাম্পাসে গিয়ে চাকরি করা তাদেঁর জন্য খুবই কষ্টের। শহরে নিয়ে এলে ইচ্ছেমতো কর্মস্থলে আসা যাবে।\”
চারুকলা একটি ৮০ ভাগ প্রাক্টিকাল বেইজ বিষয়, এর জন্যে রাত দিন অনুশীলন করতে হয়, বা সহজে বললে দিনের বেশীরভাগ সময় চারুকলা শিক্ষারথীদের ক্লাসরুম বা স্টুডিও তে থাকা লাগে। চবি ক্যাম্পাসে ৪০ বছর চারুকলা ডিপার্ট্মেন্ট ছিল, সেখানে সকাল ১০ তা থেকে বিকেল ৫ টার মধ্যে ডিপার্ট্মেন্টে তালা ঝুলিয়ে ছাত্রছাত্রীদের চলে যেতে হতো। চারুকলার বেশির ভাগ ছাত্রছাত্রীই চট্টগ্রাম শহর থেকে আসা যাওয়া করত বলে তাদের প্রচুর সময় নষ্ট হত যাতায়াতে। আর শহরে থাকার পেছনে ছিল অনেক বাস্তব কারণ, যেমন শহরে আবাসন ও নিরাপত্তা ভালো। বিষয় সম্পৃক্ত নানান পার্ট টাইম কাজ করা যায়। পড়ালেখার পাশাপাশি নিজের দক্ষতা উন্নয়নে সক্রিয় থাকার জন্যে সহায়ক সব প্রতিষ্ঠানএর সুযোগ গুলি কাজে লাগানো যায় যা মূল ক্যাম্পাসে নাই। এছাড়া শহরে অনেক সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড চলতে থাকে যেসবে চারুকলার ছাত্রছাত্রীরা নানান ভাবে যুক্ত হয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা উন্নয়নের সুযোগ পায়। আর চারুকলা কেন্দ্রিক পড়ালেখার পরিসমাপ্তিতে তো তাদের শহরেই প্রফেশনাল হিসেবে চর্চা অব্যহত রাখতে হবে, তাই ছাত্র থাকাকালীন শহর সম্পৃক্ততা কারো জন্যেই কোন ক্ষতির কারন হবার কথা নয়, তার কোন যুক্তি ও নাই। বরং শহর থেকে বিচ্ছিন্নতা এই শিক্ষাকে বিকলাঙ্গ করার ঝুঁকি তৈরি করে। কিন্তু আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীরা কোন কারনে এই বিষয় গুলিকে তাদের বিবেচনায় নেয় না, একারনে এদের চারুকলার ছাত্রছাত্রী হিসেবে এম্বিশন্টা কি তাই নিয়ে সন্দেহ জাগে। এই একই কারণ গুলি শিক্ষকদের ক্ষেত্রে ও প্রযোজ্য। কোন শিল্পী কিংবা শিক্ষকের শহরে বসবাস করা কি অন্যায়? আর ২২ কিলোমিটার দূরত্ব কি মিথ্যা কথা? এই দুরত্ব যদি প্রতিদিন কারো যাতায়াত করতে হয় তা কার ভাল লাগবে বলুন? চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কি শিক্ষকদের শতভাগ আবাসন এর ব্যবস্থা করতে পেড়েছে? এগুলি বাস্তবতা,, কিন্তু উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে সেসব কে কারো উপর দোষ হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া অন্যায় ও ছোটলোকি।
প্রতিক্রিয়া – \”তৃতীয়ত, শুধু চাকরির বেতনে তো তাঁদের খরচ কুলায় না, সরকারি–বেসরকারি কমিশন ওয়ার্কগুলো বাগিয়ে নিতে শহরে অবস্থানটাও বড় সহায়ক।\”
চাকরির দায়িত্ব পালন করে কেউ যদি বাড়তি কাজ করে এবং তার আয় রোজগার বাড়ে তাতে দোষ টা কোথায় ভাই? দায়িত্বে অবহেলা বা ফাকি দিলে সেই প্রশ্ন তুলেন? কিন্তু কারো উন্নতি সহ্যকরতে না পেরে তার সব কিছুতেই দোষ খুঁজে বেড়ানো তো সুন্দর বিষয় না।
আন্দোলনের নামে দেশের প্রধান শিল্পীগণ যারা আমাদের অভিবাবক, তাদের সম্পর্কে যেসব অরুচিকর অসত্য বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে তা ভিষণ দুঃখজনক ও হতাশা জনক, শিল্পী ও শিল্প সমালোচক শ্রদ্ধেয় শিক্ষক আবুল মনসুর, শিল্পী – আধ্যপক অলক রায় ও প্রয়াত একুশে পদক প্রাপ্ত শিল্পী মনসুর-উল-করিম কে যে ভাষায় আন্দোলন কারীরা উল্যেখ করছেন তাতে আপনাদের জন্যে চিন্তা হয় , লজ্জা লাগে । কি পরিমাণ অপরিনামদর্শী ভাবনায় তাড়িত হলে এসব সম্মানীত ব্যাক্তির ব্যপারে এধরনের অভিযোগ আনতে পারে কেউ। ভাবুন , নিজের দিকে তাকান, যারা আপনাদের উত্তেজিত করছেন তাদের জীবনের কোন এচিভমেন্ট নাই। ভালো করে খোঁজ করুন, নিজেই নিজের সর্বনাশ করার এই পথ থেকে সময় থাকতে সরে দাড়ান। এই সব উসকানি দাতারা আখেরে আপনাদের পাশে থাকবে না। নিজের এবং আরো অনেক ছাত্রছাত্রীর শিক্ষাজীবন ধ্বংসের কারন হবে এই আন্দোলন। যারা এই আন্দোলনের উস্কানি দেয় উনাদের গভীর দুরভিসন্ধি আছে।
মূলত সরকারী চারুকলা কলেজের ভূমি থেকে চারুকলা ইন্সটিটিউট কে উচ্ছেদ করে চবি মূল ক্যাম্পাসের কোন কোনা কাঞ্চিতে গুজে দিয়ে এই জমিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক মিলনায়তন নির্মান ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্যে রেস্ট হাউস ও ক্লাব নির্মানের দুরভিসন্ধি মূলক তরপরতা থেকেই এই আন্দোলনের ফোকাস ২২ দফা থেকে সরিয়ে দিয়ে ১ দফায় রূপান্তরিত করা হয়েছে। এটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং চট্টগ্রাম শহরে চারুকলা কিংবা শিল্প ও সাংস্কৃতিক চর্চার বিরুদ্ধে এক গভীর চক্রান্ত। এই আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি একটু মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষন করলে এটি যে কারো কাছেই স্পষ্ট হয়ে যাবার কথা। অবকাঠামো গত নানান অসুবিধা সমাধানের ২২ দফা দাবীতে যেই আন্দোলন শুরু হয়েছিল তা কি কারনে একদফায় রূপান্তরিত হল কারা এর পিছনে কলকাঠি নাড়ছেন তাদের অতীত কর্মকান্ড ও রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে খোজখবর নিলে এই চক্রান্তের হদিস সহজেই মিলবে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগ ও চট্টগ্রাম সরকারী চারুকলা কলেজের একীভুত না হবার বিকল্প কোন পথ ছিলনা। চট্টগ্রামে চারুশিক্ষার প্রায় অকেজো হয়ে পড়া ২ টি সরকারী প্রতিষ্ঠানকে এক করে শহরের কেন্দ্রে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া অনেক জঠিল ছিল। অনেকের শিক্ষাজীবন, ও ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার বলি দিতে হয়েছে এই উত্তরন এর পিছে। বর্তমান ক্যাম্পাসে চারুকলার স্থানান্তরের মাধ্যমে চট্টগ্রামের মূল ধারার সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে দৃশ্যমান পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। এখন চট্টগ্রাম থেকে শিল্পীরা দেশের সব জাতীয় প্রদর্শনী ও অনেক আন্তর্জাতিক কর্মকান্ডে ঢাকার শিল্পীদের সাথে সমান অংশগ্রহন নিশ্চিত করে যাচ্ছে, যা আমরা এক সময় ভাবতে ও পাড়তাম না চট্টগ্রামে বসে। এই ধারা আরো বেগবান করার সুযোগ আছে। বন্দর নগরীর তকমা ছাপিয়ে চট্টগ্রাম শিল্পের নগরী হয়ে উঠবে আমরা এমন স্বপ্ন দেখি। এই শহর একসময় এই অঞ্চলের চারুকলার স্বতন্ত্র চর্চার যে পরিচিতি গড়ে উঠছে তাঁকে ব্রান্ড করে নিজের পরিচয় বিনির্মান করবে বিশ্বের বুকে, আমরা এমন স্বপ্ন দেখি। আর এসব সম্ভব হবে চারুকলা ইন্সটিটিউট এর বর্তমান অবস্থান কে আরো সুদৃঢ় ও কার্যকর করার মাধ্যমে। উল্টো পথে চলার এবং মূল ক্যাম্পাসে ফিরে যাবার যে আন্দোলন তা বেকোয়ার্ড পলিটিক্স, এবং কিছু ব্যার্থ মানুষের দুঃস্বপ্ন ছাড়া কিছু নয়। নবীনদের পিছন মুখী হলে চলে না, সামনে এগুতে হবে। বাংলাদেশে সারা দুনিয়ার প্রবেশ পথ এই চট্টগ্রাম শহর। এঁকে উপেক্ষা করে কেন জঙ্গলে যাবেন ভাই? পজিটিভ ভাবুন, দুনিয়া আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছে শিল্পের অপার সম্ভাবনা সাজিয়ে , এসব সেকেলে আবেগ ঝেড়েফেলে দুনিয়ার দিকে তাকান। পড়াশুনা সময় মত শেষ করে চারুকলার মূলধারায় নিজেকে নিবিড় ভাবে নিয়োজিত করুন, নিজে সফল হবেন। এতে শিল্পী রশিদ চৌধুরী সহ এই প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক কন্ট্রিবিউটর শান্তি পাবেন।
সে সময় অনুষ্ঠিত এক সভায় দুটি সমস্যায় জর্জরিত সরকারী চারুকলা শিক্ষার প্রতিষ্ঠান এর চলমান সংকট সমাধানে এক চমৎকার প্রস্তাব উত্থাপন করেন তথকালীন জনপ্রিয় সিটি মেয়র জননেতা মহিউদ্দিন চৌধুরী। যার প্রস্তাবে সবাই আশার আলো দেখেন। কিন্তু এই প্রস্তাব উত্থাপনের সাথে সাথেই এটি গৃহীত হয়নি। এই প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী, স্থানীয় নাগরিক বৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক ও প্রভাবশালী শিক্ষকবৃন্দ ও দেশের বিশিষ্ঠ চারুশিল্পীদের মতামত গ্রহণ করা হয়, চলে দীর্ঘ বিতর্ক। সে সময় চারুকলার বিষয় হিসেবে নগর কেন্দ্রিকতা ও চট্টগ্রাম নগরীর সাংস্কৃতিক চর্চার ধারাকে এই প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত করার মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক পরিচয় বিনির্মানের সম্ভাবনাকে বিশেষ গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল। বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল সরকারী সম্পত্তির কার্যকরি ব্যবহারের বিষয়টি ও। এছাড়া সরকারী চারুকলা কলেজের যে পাঠক্রম উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সমমানের ধরা হত তাঁর নানাবিধ দুর্বলতা ছিল, যেসব কারনে সমসাময়ীক বিশ্ব শিল্পকলার মূল ধারার চর্চার সাথে কলেজের শিক্ষার্থীদের তাল মিলাতে বেশ সমস্যা হচ্ছিল। অনেকের বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস অনুসরন করার সামর্থ্য ও তৈরি হতোনা। এস এস সি’র পরেই যারা কলেজে ভর্তি হয়ে চারুকলার প্রাক্টিক্যাল আনুশীলনের চাপে পড়ে যেত, তারা আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ে কিংবা বিশ্ব শিল্পকলার মূল ধারার চর্চার জন্যে লেখাপড়ার বিত্তিভুমি মজবুত করার সময় পেতোনা আর। আর সেই সময় টাতে বিশ্ব শিল্পকলার মূলধারায় স্কিল এর চাইতে কন্সেপ্ট ও বুদ্ধিবৃত্তির গুরুত্ব যে বাড়ছে তা আমাদের স্কলারগণ ভালোভাবেই অনুধাবন করছিলেন। যার ফলশ্রুতিতে কলেজ পর্যায়ে চারুশিক্ষার ব্যাপারটিকে তারা নিরুৎসাহিত করেছিলেন, এবং কলেজ কে ইন্সটিটিউটের সাথে একীভুত করার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সামগ্রীক বিবেচনায় চট্টগ্রামের ২ টি সমস্যা জর্জড়িত চারুশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি ইন্সটিটিউটে রূপান্তরিত করে চট্টগ্রাম শহরে এটিকে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের ঘোষনা আসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে। এতে সব সব পক্ষ খুশি হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাম দল গুলি ও জামাত শিবির এই সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তেই তৎকালীন ভি সি অধ্যাপক আবু ইউসুফের প্রত্যাক্ষ তত্ববধানে ইন্সটিটিউট চট্টগ্রাম শহরে স্থানান্তরিত হয়। এতে সেই মন খারাপ করা গোষ্ঠী থেমে থাকে নি, তারা এখনো এই ইন্সটিটিউট এর শহরে আসা মেনে নিতে পারে নি। কিন্তু তাদের কাছে প্রশ্ন তারা এর চাইতে ভালো কোন সমাধান তখন কেন সাজেস্ট করেনি। আদতে তা ছিল না। এখন এতদিন পরে এই মীমাংসিত সমস্যাকে নতুন করে সামনে এনে কিছু নবীন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের ক্ষতি করে কি লাভ দেখছে তারা তা আমার মাথায় আসে না।
দেশের ২য় বৃহত্তর শহর চট্টগ্রাম, এর কেন্দ্রে অবস্থিত বর্তমান চারুকলা ইন্সটিটিউট। বাদশামিয়া রোডের এই অবস্থান থেকে সি আর বি, পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত, দেশের বৃহত্তম বন্দর, বিমান বন্দর, পাহাড়তলী, কর্নফুলী নদীর ঘাট সমুহ সহ কত কত দর্শনীয় স্থান সহজেই যাতায়াত করা যায়। মানুষ এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্রে ঠাসা এক দুর্দান্ত শহর কে পাশ কাটিয়ে কি বুঝে ২২ কি মিটার দূরে অবস্থিত একটি জনবিচ্ছিন্ন দ্বীপের মত জায়গায় চারুকলা কে ফিরে যেতে হবে? জন-যোগাযোগ, প্রকৃতি, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র, রাজনৈতিক কেন্দ্র সমূহ,সমাজ সম্পৃক্ততায় সুযোগ কি নাই বর্তমান অবস্থানে? শহরে রয়েছে বর্তমান সময়ের সর্বাধুনিক পাব্লিক লাইব্রেরী, ব্রিটিশ কাউন্সিল, শিল্পকলা একাডেমী, আলিয়স ফ্রানসেস, জার্মান ও রাশিয়ান কালচারাল সেন্টার সহ আরো নানান ধরনের সাংস্কৃতিক চর্চার দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান সমুহ যা ছাত্র ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার তৈরিতে বহুমুখী কর্মকান্ডে ব্যস্ত থাকে সারা বছর। এসব সুযোগ সুবিধা চারুকলার যে কেউ নিতে পারে নিজের পড়ালেখার পাশাপাশি। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর আর্ট গ্যালারীটি দেশের ২য় বৃহৎ সরকারী আর্ট গ্যালারী যা চাইলেই চারুকলার শিক্ষার্থী শিক্ষক গণ ব্যবহার করতে পারেন। ইন্সটিটিউট থেকে এই গ্যালারী মাত্র ১০ মিনিটের হাটার দুরত্বে অবস্থিত, অনেকে এসব সাপোর্ট কাজে লাগিয়ে নিজের কর্মকান্ডের ব্যাপ্তি শহরময়, বিশ্বময় ছড়িয়ে দেবার সুযোগ পেয়েছেন শহরে ইন্সটিটিউট স্থানান্তরিত হবার করনে। খোঁজ নিয়ে দেখুন তো, ইন্সটিটিউট ক্যাম্পাসে থাকা কালীন ছাত্র ছাত্রীদের কজন এই সুবিধা গুলি নিতে পেরেছিলেন? যখন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পড়তে যাবেন তখন এই সুবিধে গুলি কি সহজলভ্য থাকবে আপনাদের জন্যে? বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এবং শহরের যেই দুরত্ত্ব তাতে কেউ নিজস্ব গাড়ি ব্যবহার করেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যম্পাসে ৫ টা পর্যন্ত ক্লাস করে শহরে এসে কোন প্রতিষ্ঠানে নিজের পছন্দের কাজটিতে আর ইচ্ছে করলেও জোগ দিতে পারবেন না।
আর যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশাল ক্যাম্পাস খুব টানে তাদের জন্যে তো সেটি এখন নিষিদ্ধ করে নি কেউ? আপনার যখন খুশি সাটল ট্রেনে চড়ে যাবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে। হ্যা, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা কর্মকান্ড নিঃসন্দেহে আলংকরিক, সোভা বর্ধন কারী। সে ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে একটি চারুকলা চত্বর তৈরির চেষ্টা করুন, যাতে যুক্ত থাকবে সেমিনার হল, প্রদর্শনী গ্যালারী, ও ইন্সটিটিউটের স্যাটেলাইট অফিস ও খোলা প্রাঙ্গন বা মুক্ত মঞ্চ । এটিকে কেন্দ্র করে চারুকলা ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থী ও দেশ বিদেশের চারুশিল্পী গনের নিয়মিত পদচারণায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস মুখরিত থাকতে পারবে, সাথে সাথে ইন্সটিটিউট এর ছাত্রছাত্রীদের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিষয়ে পড়তে আসা ছাত্রছাত্রীদের সাথে ভাবের আদান প্রদান বাড়বে, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পাশাপাশি সংস্কৃতি চর্চার পরিবেশ উন্নত হবে, এতে সব পক্ষ সমৃদ্ধ হবে। আপাতত অবকাঠামো ছাড়াই চাক্সু ভবন এবং জারুল তলা চত্বরকে কে ঘিরে চারুকলা চত্বর তৈরি করে নিতে শুধু সদিচ্ছার প্রয়োজন। এছাড়া ও বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান যে কোন সাংস্কৃতিক আয়োজনে চারুকলার ছাত্রছাত্রীরা চাইলেই নিজেদের যুক্ত করতে পারেন। চারুকলা ইন্সটিটিউট কিছু প্রাক্টিকাল আউটডোর স্টাডি নিয়মিত ভাবেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ে যেতে পারেন, এটির জন্যেও কোন অবকাঠামো শিফট করা লাগে না, লাগে সদিচ্ছা টুকু, এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যম্পাসে চারুকলা না থাকার আফসোস তো থাকার কথা না। কারো ইচ্ছে হলে, সামর্থ্য থাকলে সেখানে গিয়ে রাজনীতি ও করুন, কিন্তু সেই জন্যে তো পুরা ইন্সটিটিউট সেখানে নিয়ে যেতে হয় না।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ছাত্র ছাত্রীগণ চট্টগ্রামের মত একটা বৃহৎ শহরের নানাবিধ নাগরিক সুবিধার মধ্যে থেকে, বৈচিত্রময় এই নাগরিক পরিবেশে যদি নিজেকে বিকশিত করতে না পারেন তবে কি করে জোবরা গ্রামে জনবিচ্ছিন্ন গ্রামীন পরিবেশে গহীন প্রকৃতিতে ডুবে তা পারবেন বলে আশা করেন তা ভেবে পাইনা আমি। আর হলফ করে বলুন তো আপনার বিষয়ের বা চারুকলার কর্মকান্ডের ভোক্তা কারা ? তাঁর কি বাংলাদেশের কোন গ্রামে থাকেন? আদতে চারুকলা বিষয় হিসেবে নাগরিক জন-জীবন ঘেষা, এর ভোক্তা শ্রেণী শহরে বসবাস করে। এর চর্চার ও বিপননের সমস্ত প্রতিষ্ঠান বিশ্বের শহর গুলি কে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে ও বিকশিত হয়েছে। অনেকে শান্তি নিকেতন এর কথা বলবেন এই প্রসঙ্গে, কিন্তু বুঝতে হবে শান্তি নিকেতন সম্পুর্ন আবাসিক কলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং এর নাগরিক যোগাযোগ আন্তর্জাতিক মানের। তদুপরি, বিশ্ব কবি ও শিল্পী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মত একজন প্রবাদ প্রতীম ব্যক্তিত্ব কোথায় পাবেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউট বিনির্মাণের জন্য, সেরকম কি কাউকে পাওয়া গেছে আপনাদের পরামর্শ দাতেদের মধ্যে? আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস কি সেই আয়োজন করতে দিবে আপনাদের?
চলমান আন্দোলন আত্মঘাতী আন্দোলন। চট্টগ্রামের চারুকলার বিকাশের ক্ষেত্রে, দেশের চারুকলা চর্চার গুনগত মান উন্নয়নের ও প্রতিবন্ধকতা, সোজা কথায় পশ্চাৎমুখী আন্দোলন।
আসুন এসব অপ রাজনীতি বাদ দিয়ে শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত এই ইন্সটিটিউট কে কিভাবে বিশ্বমানে গড়ে তোলা যায় , কি করে ছাত্রছাত্রীদের মৌলিক চাহিদা গুলো মিটানো যায়, এই বিদ্যমান ক্যাম্পাস কে কি করে চট্টগ্রামে আরো বিস্তৃত ও বিকশিত করা যায় সেই বিষয়ে কথা বলি।
আমাদের দেশের প্রচলিত শিল্পচর্চার সব চাইতে দুর্বল দিক এর জনবিচ্ছিন্নতা। দেশের সাধারন মানুষের রুচি, চিন্তার গতিপ্রকৃতি, দৈনন্দিন জীবনাচার নিবিড় ভাবে পাঠ করতে না পারলে কি করে সত্যিকারের জনসম্পৃক্ত শিল্প চর্চার পথ তৈরি হবে? ইন্সটিটিউট এর শহরের অবস্থান ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের নাগরিক সমাজ ও এর সংস্কৃতির নিবিড় সান্নিধ্যে এক অমুল্য সুযোগ, এটি দেশের শিল্প চর্চার ক্ষেত্রে যেমন নতুন বৈশিষ্ট্য তৈরি করতে ক্ষমতা দিবে তেমনি আপামর নাগরিক জীবনের গুনগত মানের উপর প্রভাব ফেলতে সহায়ক হবে। তাই চট্টগ্রাম শহরে অবস্থিত এই ইন্সটিটিউট এখান থেকে সরিয়ে নেবার চিন্তা মোটেই ভালো চিন্তা নয়। এই বিষয়ে চট্টগ্রেমের নাগরিক, শহরে বসবাসকারী শিল্পীদের এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের আরো সোচ্চার ও কার্যকরী ভূমিকা প্রত্যাশা করি। ছাত্রছাত্রীদের উচিত এরকম বিধ্বংসী আন্দোলন বাদ দিয়ে চট্টগ্রাম শহরের থেকে কি করে চারুকলা চর্চার ও শিক্ষার মান উন্নয়ন করা যায় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসের সাথে আরো বেশি সম্পৃক্ত হওয়া যায় তার জন্য সৃজনশীল ও কার্যকর ভূমিকা রাখে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছাত্র মিলনায়তন চারুকলার দক্ষিণে পুলিশের জায়গার হবে শুনেছি , এতে আমরা বেশ খুশি হয়েছিলাম। কেননা চারুকলার দেয়াল ঘেষে পুলিশের জায়গায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছাত্র মিলনায়তন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষকদের আনাগোনায় চারুকলার কর্মপরিবেশ সমৃধ হবে। সেখানে না হলেও চট্টগ্রাম শহরের অন্য কোন সুবিধাজনক জায়গায় টি এস সি প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব অপরিসীম, এতে বিশ্ববিদ্যালয় টি চট্টগ্রামের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে আরো কার্যকরী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। কিন্তু চারুকলার বর্তমান ক্যাম্পাসে টি এস সি করার চিন্তা খারাপ চিন্তা।
এটি ঠেকাতে আন্দোলন করুন, যে টুকু দখলে করতে চেষ্টা হয়েছে তা পূনর্দখল করার চেষ্টা করুন। আবেগ নয় শত শত মানুষের প্রায় অর্ধ শতাব্ধী সময়কাল ব্যাপী নিরলস চেষ্টায় তিল তিল করে গড়ে উঠা একটা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করারর গভীর চক্রান্ত চলছে, এই চক্রান্তে আপনার ভূমিকা এক দিন না একদিন আপনাকে নিজের বিবেকের কাটগড়ায় দাঁড় করাবেই। তাই এসব বিধ্বংসী আন্দোলন ও চক্রান্ত বন্ধ করুন, এতে সবার মঙ্গল হবে।
চারুকলা ইন্সটিটিউট কে শহরে স্থানান্তর করে সরকার কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তপক্ষ কোন ভুল কাজ করেন নি, এটি সময়োপযোগী ও স্মার্ট সিদ্ধান্ত ছিল, বরং তখন এবং এখনো যারা এই মহৎ ও দুরদর্শী সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেন নি তাদের আদত উদ্দেশ্য বুয়ঝা মুশকিল, তারা কখনো এর ঘাড়ে কখনো ওর ঘাড়ে চেপে বসছেন তাদের অযৌক্তিক ও পশ্চাত্মূখী চিন্তা বাস্তবায়নের জন্যে। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারন ছাত্রছাত্রীদের নানান ভুল তথ্য দিয়ে, মিথ্যা ও আবগী বক্তব্য দিয়ে রাস্তায় নামানোর পাঁয়তারা শুরু করেছেন আন্দোলনের নামে। আন্দোলনের উদ্দেশ্য যদি খারাপ হয় তা আর আন্দোলন থাকেনা তাঁকে লোকে ষড়যন্ত্র বলে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারন ছাত্রছাত্রীরা কারো ষড়যন্ত্রে পা দেবে না এটি আমার বিশ্বাস বাকিটা সময় বলবে।
এই বিষয়ে আরো জানতে নিচের লিং এ থাকা লেখা গুলি পড়ার অনুরোধ রইল
ধন্যবাদ!
লিংকঃ